বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার বড় ঘোষণা করলেন পরিচালক ও প্রাক্তন বিধায়ক Raj Chakraborty। ২০২৬ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ আবেগঘন পোস্ট করে রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার কথা ঘোষণা করেছেন রাজ।
একসময় টলিউডের সফল পরিচালক হিসেবে পরিচিত রাজ চক্রবর্তী ২০২১ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়কও হন। তবে এবারের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী Kaustav Bagchi-র কাছে হারের পরই যেন বদলে গেল সমীকরণ।
আবেগঘন পোস্টে কী লিখলেন রাজ?
সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ চক্রবর্তী লিখেছেন, জীবনের প্রতিটি দায়িত্ব তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছেন। পরিচালক হিসেবে যেমন দর্শকদের বিনোদন দিয়েছেন, তেমনই বিধায়ক হিসেবেও মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলেই দাবি তাঁর।
তিনি আরও জানান, ২০২১ সালে শুরু হওয়া তাঁর রাজনৈতিক সফর ২০২৬-এ এসে শেষ হল। নতুন সরকারকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন রাজ।
রাজের পোস্টে ছিল শান্ত ও সংযত সুর। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও বাংলার উন্নতি কামনা করেছেন তিনি।
ভোটে পরাজয়ের পর বাড়ল বিতর্ক
নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন থেকেই উত্তপ্ত ছিল পরিস্থিতি। গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন রাজ চক্রবর্তী। তবে বিকেলের দিকে যখন ভোটের ব্যবধান বাড়তে থাকে, তখন কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।
সেই সময়ই তৈরি হয় বিতর্ক।
সূত্রের খবর, গণনাকেন্দ্রের বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে কাদা ছোড়া হয়। পাশাপাশি ‘চোর চোর’ স্লোগানও শোনা যায় বলে অভিযোগ।
ঘটনার ভিডিও ও ছবি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও এই বিষয়ে পরে প্রকাশ্যে কোনও পাল্টা মন্তব্য করেননি রাজ।
পাশে দাঁড়ালেন শুভশ্রী
এই ঘটনার পর অভিনেত্রী Subhashree Ganguly সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ছবি পোস্ট করেন রাজের সঙ্গে। সেই পোস্টে সরাসরি কিছু না বললেও, অনেকেই সেটিকে সমর্থনের বার্তা হিসেবেই দেখেছেন।
রাজনৈতিক চাপে ব্যক্তিগতভাবে কঠিন সময়ের মধ্যেও পরিবার যে তাঁর পাশে রয়েছে, সেই বার্তাই যেন উঠে আসে সেই পোস্টে।
রাজনীতিতে রাজের যাত্রা কেমন ছিল?
টলিউড থেকে রাজনীতিতে আসার পর প্রথম থেকেই আলোচনায় ছিলেন রাজ চক্রবর্তী। ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হওয়ার পর একাধিক উন্নয়নমূলক কাজেও তাঁকে দেখা গিয়েছে।
তবে রাজনৈতিক ময়দানে তাঁকে ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি।
সমালোচকদের একাংশের দাবি ছিল, সিনেমা ও রাজনীতি— দুই দিক সামলানো সহজ হয়নি তাঁর জন্য। আবার সমর্থকদের মতে, রাজ সবসময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছেন।
কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পরে অনেক তারকা-রাজনীতিকই নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
রাজ চক্রবর্তীর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণাকে অনেকেই প্রতীকী ঘটনা হিসেবেও দেখছেন। কারণ গত কয়েক বছরে বাংলার রাজনীতিতে বিনোদন জগতের উপস্থিতি অনেকটাই বেড়েছিল।
এখন প্রশ্ন উঠছে— ভবিষ্যতে রাজ কি শুধুই সিনেমাতেই মন দেবেন?
বড় আপডেট
- রাজনীতি থেকে অবসর ঘোষণা করলেন রাজ চক্রবর্তী
- ২০২৬ নির্বাচনে কৌস্তভ বাগচীর কাছে পরাজিত হন তিনি
- সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট করেন রাজ
- গণনাকেন্দ্রের বাইরে কাদা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে
- নতুন সরকারকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন পরিচালক
টলিউডে কি আরও সক্রিয় হবেন রাজ?
রাজনীতির অধ্যায় শেষ করার ঘোষণা করার পর থেকেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে তাঁর সিনেমা কেরিয়ার নিয়ে।
ইন্ডাস্ট্রির একাংশ মনে করছে, এবার হয়তো পুরোপুরি চলচ্চিত্র পরিচালনাতেই মন দেবেন রাজ। কারণ রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে গত কয়েক বছরে তাঁর পরিচালিত ছবির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে গিয়েছিল।
তবে এখনও পর্যন্ত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
রাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক সফর খুব দীর্ঘ না হলেও যথেষ্ট আলোচিত ছিল। জয়, পরাজয়, সমালোচনা, বিতর্ক— সব মিলিয়ে তাঁর এই অধ্যায় ছিল ঘটনাবহুল।
এবার সেই পথচলায় ইতি টেনে ফের নতুন করে চলচ্চিত্রের জগতে মন দিতে চান কি না, সেটাই এখন দেখার। তবে তাঁর আবেগঘন বার্তা ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।