প্রযুক্তি এখন আর শুধু স্মার্টফোন, গাড়ি বা কারখানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ধীরে ধীরে তা প্রবেশ করছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জগতেও। সেই পরিবর্তনেরই এক অভিনব উদাহরণ সামনে এল দক্ষিণ কোরিয়ায়।
দেশটিতে প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করেছে মানবাকৃতির রোবট ভিক্ষু ‘গাবি’। বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রোবটটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনা হয়। আর তারপর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
দক্ষিণ কোরিয়ার মন্দিরে হাজির রোবট ভিক্ষু
সিউলের একটি বৌদ্ধ মন্দিরে বুদ্ধপূর্ণিমার বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় রোবট ভিক্ষু গাবি।
ধূসর ও বাদামি রঙের ঐতিহ্যবাহী ভিক্ষুর পোশাকে সজ্জিত এই রোবটকে ধর্মীয় আচারের বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করতে দেখা যায়।
প্রযুক্তি ও আধ্যাত্মিকতার এমন মেলবন্ধন দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন।
কীভাবে তৈরি হয়েছে রোবট ভিক্ষু গাবি?
প্রায় ১৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই মানবাকৃতি রোবট তৈরি হয়েছে উন্নত AI প্রযুক্তির সাহায্যে।
গাবির ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে চীনের জনপ্রিয় হিউম্যানয়েড রোবট প্ল্যাটফর্মের উপর ভিত্তি করে।
রোবটটির চলাফেরা, অঙ্গভঙ্গি এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ধরণ বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে ধর্মীয় পরিবেশের উপযোগী করে।
‘গাবি’ নামের বিশেষ অর্থ কী?
রোবটটির নামও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
“গাবি” নামটি নেওয়া হয়েছে সিদ্ধার্থের নামের ভাবনা এবং কোরীয় ভাষায় “করুণা” শব্দের অর্থ থেকে। আয়োজকদের মতে, এই নামের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে এক ধরনের সংযোগ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
কেন আনা হল রোবট ভিক্ষু?
আয়োজকদের দাবি, তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় চর্চার প্রতি নতুনভাবে আকৃষ্ট করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক মন্দিরেই সন্ন্যাসীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। সেই সমস্যার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
মূল উদ্দেশ্য
- তরুণদের ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করা
- প্রযুক্তিনির্ভর ধর্মীয় অভিজ্ঞতা তৈরি
- মন্দিরে জনবল সংকট মোকাবিলা
- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে আরও আধুনিক করে তোলা
কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে AI ও মানবাকৃতি রোবট সমাজের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা কিংবা জনসেবা— সব ক্ষেত্রেই রোবটের ব্যবহার বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে মানবাকৃতি রোবটের ব্যবহার
একসময় যেসব রোবট শুধুই পরীক্ষাগারে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেগুলিই বাস্তব জীবনের নানা কাজে ব্যবহার হচ্ছে।
বর্তমানে:
- উৎপাদন শিল্প
- স্বাস্থ্য পরিষেবা
- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
- জনসেবা
- ক্রীড়া
সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানবাকৃতি রোবট ব্যবহারের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
বড় আপডেট: ভবিষ্যতে আরও অনুষ্ঠানে দেখা যেতে পারে গাবিকে
আয়োজকদের দাবি, ভবিষ্যতে বুদ্ধপূর্ণিমার শোভাযাত্রা ও অন্যান্য ধর্মীয় আয়োজনে সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে গাবিকে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা যেতে পারে।
ফলে প্রযুক্তিনির্ভর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
উপসংহার
রোবট ভিক্ষু গাবির আত্মপ্রকাশ শুধু প্রযুক্তির অগ্রগতির উদাহরণ নয়, বরং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিসরে AI-এর প্রবেশেরও বড় ইঙ্গিত।
আগামী দিনে এই ধরনের উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।