কলকাতা: অবশেষে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। সোমবার সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ছেলে সমুদ্র বসু ও আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ইডি দফতরে পৌঁছন সুজিত বসু। দীর্ঘক্ষণ জেরা চলার পর রাতে তাঁর গ্রেফতারের খবর সামনে আসে। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ।
সুজিত বসু গ্রেফতার নিয়ে কেন এত আলোচনা?
পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত কয়েক মাস ধরেই একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে আসছিল তদন্তে। সেই তালিকায় ছিলেন সুজিত বসুও। এর আগে ১ মে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁকে ফের তলব করা হয়।
সোমবার দ্বিতীয়বার হাজিরার পরই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর এত দ্রুত এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
কী অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে?
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির একাধিক তথ্য হাতে এসেছে। অভিযোগ, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে মিলেছে—
- সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য
- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ
- একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র
- গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল তথ্য
যদিও সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ মহল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রথীন ঘোষ ফের এড়ালেন হাজিরা
একই মামলায় এদিন ফের ইডির তলব এড়িয়ে যান প্রাক্তন মন্ত্রী ও মধ্যমগ্রামের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষ। ফলে তদন্তের গতি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী দিনে এই মামলায় আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নাম সামনে আসতে পারে।
কী বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলা এখন শুধুমাত্র প্রশাসনিক তদন্তের গণ্ডিতে নেই। এই মামলা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন বাড়ছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।
জানুন এরপর কী হতে পারে
ইডি সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সুজিত বসুকে আদালতে তোলা হতে পারে। তদন্তকারীরা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারেন। কারণ, এই মামলায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আর্থিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এখন নজর আদালতের দিকে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও বাড়ছে চাপানউতোর।
সুজিত বসু গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তদন্ত যত এগোবে, ততই সামনে আসতে পারে আরও বিস্ফোরক তথ্য। ফলে আগামী কয়েকদিন রাজ্য রাজনীতিতে এই ইস্যুই যে অন্যতম বড় আলোচনার কেন্দ্র হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।