কলকাতা: অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে রাজ্য জুড়ে যখন জোর চর্চা চলছে, তখনই বড় বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, কার নাম বাদ যেতে পারে—সেই বিষয়েই এদিন বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, যাঁরা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তাঁদের অধিকাংশই অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারের আওতায় আসবেন। তবে তার আগে হবে বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া।
অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার নিয়ে কী বললেন অগ্নিমিত্রা পাল?
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা DBT ব্যবস্থার মাধ্যমে।
তবে টাকা পাঠানোর আগে সরকার উপভোক্তাদের তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখতে চাইছে।
মন্ত্রী জানান, কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হবে—
- যাঁদের নাম আগেই বাতিল হয়েছে
- মৃত ব্যক্তিদের নাম
- ভুয়ো বা ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
- নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অসঙ্গতি
সরকারি সূত্রের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই যাচাই।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তাদের কি আবার ফর্ম ফিলআপ করতে হবে?
এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের বহু মহিলা জানতে চাইছেন, নতুন করে আবেদন করতে হবে কি না।
এদিন এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলেও বিজেপি নেতা সঞ্জয় সিং জানান, যাঁরা ইতিমধ্যেই সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের তথ্য যাচাই করা হতে পারে।
তাঁর দাবি, অতীতে একাধিক সরকারি প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তার অভিযোগ উঠেছিল। সেই কারণেই এবার আরও কড়া যাচাইয়ের পথে হাঁটতে পারে সরকার।
১ জুন থেকেই কি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা?
সরকারি মহলের ইঙ্গিত, সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে জুন মাস থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হতে পারে।
সূত্রের খবর, অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বেশ কিছু বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার ভোট রাজনীতিতে সামাজিক প্রকল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার নিয়েও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যাচাই প্রক্রিয়া জরুরি হলেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে দ্রুত স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
বড় আপডেট: কারা বাদ যেতে পারেন?
সরকারি সূত্রে সম্ভাব্য যে বিষয়গুলি সামনে আসছে—
যাঁদের নাম বাদ যেতে পারে:
- মৃত উপভোক্তা
- ভুল নথি জমা দেওয়া ব্যক্তি
- ভুয়ো পরিচয়ে আবেদনকারীরা
- অযোগ্য হয়েও সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিরা
যাঁরা সুবিধা পেতে পারেন:
- বর্তমান বৈধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার উপভোক্তারা
- যাচাইয়ে উত্তীর্ণ আবেদনকারীরা
- DBT-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা মহিলারা
অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে প্রতিদিন। তবে সরকার যে যাচাইয়ের পথে হাঁটছে, তা স্পষ্ট করে দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এখন নজর ১ জুনের দিকে—কবে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এই প্রকল্প এবং শেষ পর্যন্ত কারা পাবেন এই সুবিধা।