বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘরের মাঠে এবারের আইপিএল ফাইনাল খেলার কথা রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি)। কিন্তু কর্নাটকের জনপ্রতিনিধিদের বিনামূল্যে ভিআইপি টিকিটের আকাশছোঁয়া দাবিতে রীতিমতো বিরক্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে ফাইনালে উঠলেও ঘরের মাঠে বিরাট কোহলিদের খেলার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
কী নিয়ে এই টিকিট-জটিলতা?
আইপিএলের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, গত মরসুমের বিজয়ী দলের ঘরের মাঠেই টুর্নামেন্টের ফাইনাল এবং প্লে-অফের ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রথা মেনেই গতবারের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে এবারের মেগা ফাইনাল আয়োজনের কথা। কিন্তু বিসিসিআইয়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন কর্নাটকের শাসকদলের বিধায়করা।
বোর্ড সূত্রে খবর, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। প্রথম ম্যাচে আরসিবির মুখোমুখি হয়েছিল হায়দরাবাদ। সেই ম্যাচের আগেই কর্নাটকের কংগ্রেস বিধায়ক বিজয়ানন্দ কাশাপ্পানাভার দাবি তোলেন, রাজ্যের প্রতিটি বিধায়ককে পাঁচটি করে ভিআইপি টিকিট দিতে হবে। তাঁর যুক্তি ছিল, সরকারের সাহায্য ছাড়া এই ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়, তাই জনপ্রতিনিধিরা টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়াবেন না। কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা এই অদ্ভুত দাবিতে আপত্তি জানালে তিনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
ভিআইপি বক্স দখলের আশঙ্কা
পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তিনি জানান, বিধায়করা পাঁচটি নয়, পরিবার নিয়ে খেলা দেখার জন্য তিনটি করে টিকিট পাবেন। কিন্তু বিসিসিআই এই প্রস্তাবেও নারাজ। কারণটি নেহাতই অঙ্কের হিসাব। কর্নাটক বিধানসভায় মোট বিধায়কের সংখ্যা ২২৮। সবাইকে তিনটি করে টিকিট দিতে হলে প্রায় ৭০০টি ভিআইপি টিকিট শুধু জনপ্রতিনিধিদের জন্যই বরাদ্দ করতে হবে। এর ফলে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে স্পনসর বা বোর্ডের অতিথিদের বসার আর কোনও জায়গাই অবশিষ্ট থাকবে না।
বিকল্প ভেন্যু হিসেবে পঞ্জাবের নাম
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসিআইয়ের এক শীর্ষ কর্তা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “গতবারের চ্যাম্পিয়নরাই সাধারণত ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব পায়। কিন্তু বিধায়কদের এই অযৌক্তিক টিকিট দাবির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে ফাইনাল বেঙ্গালুরু থেকে সরিয়ে নেওয়া ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনও উপায় থাকবে না।”
বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরু থেকে ম্যাচ সরলে গতবারের রানার্স-আপ পঞ্জাব কিংসের ঘরের মাঠ মুল্লানপুর স্টেডিয়ামে আইপিএল ফাইনাল আয়োজিত হতে পারে। নতুন এই স্টেডিয়ামের আধুনিক পরিকাঠামো বোর্ডের বেশ পছন্দ।
নেপথ্যে রয়েছে অতীত ট্র্যাজেডিও
টিকিট বিতর্কের পাশাপাশি পরিকাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়টিও বিসিসিআইয়ের ভাবনায় রয়েছে। গত বছর আরসিবির প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বেঙ্গালুরুতে বিজয় উৎসব চলাকালীন চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। পদপিষ্ট হয়ে ১১ জন নিরীহ সমর্থকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছিল।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং নিরাপত্তার জোড়া ফলায় আটকে রয়েছে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ভাগ্য। শেষ পর্যন্ত যদি ফাইনাল বেঙ্গালুরু থেকে সরেই যায়, তবে তা বিরাট কোহলি এবং আরসিবি সমর্থকদের জন্য এক বিশাল হতাশার কারণ হবে। এখন দেখার বিষয়, ক্রিকেট এবং রাজনীতির এই দড়ি টানাটানিতে শেষ হাসি কে হাসে।