Madhyamik Topper 2026: রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে উত্তর দিনাজপুরের অভিরূপ ভদ্র। করোনা মহামারীতে বাবাকে হারানোর মর্মান্তিক শোক। পরিবার বলতে একমাত্র লড়াকু মা। জীবনের এই চরম প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের ছেলে অভিরূপ ভদ্র। রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দির (হাই স্কুল)-এর এই অদম্য মেধাবী ছাত্র ৭০০-র মধ্যে ৬৯৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। উত্তরবঙ্গের এই ছাত্রের নজরকাড়া সাফল্য আজ সমগ্র রাজ্যের কাছে এক অসামান্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।
নজরকাড়া মার্কশিট: ৬টি বিষয়ে ১০০-এ ১০০
অভিরূপের মার্কশিট আক্ষরিক অর্থেই চমকপ্রদ। শুধুমাত্র দ্বিতীয় ভাষা বাদে বাকি সমস্ত বিষয়েই সে ১০০ শতাংশ নম্বর ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রথম ভাষা (বাংলা), অঙ্ক, ভৌত বিজ্ঞান, জীবন বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং ভূগোলে তার প্রাপ্ত নম্বর ১০০-এ ১০০। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ভাষাতেও সে পেয়েছে ৯৮ নম্বর। বলাই বাহুল্য, প্রতিটি বিষয়েই তার গ্রেড ‘AA’। মেধার এমন চূড়ান্ত নিদর্শন সচরাচর দেখা যায় না।
জীবনসংগ্রাম ও মায়ের অদম্য আত্মত্যাগ
সাফল্যের এই পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। কোভিড-১৯ মহামারীর ভয়াল থাবায় বাবাকে হারিয়েছিল অভিরূপ। পরিবারে ভাই বা বোন নেই, অভিভাবক বলতে তার মা ইন্দ্রাণী চৌধুরী ভদ্র। পেশায় তিনি একজন নার্স এবং রায়গঞ্জ হাসপাতালেই কর্মরত। একদিকে প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং অন্যদিকে ছেলেকে যোগ্য করে তোলার নীরব লড়াই—মায়ের এই আত্মত্যাগই যেন অভিরূপের অভাবনীয় সাফল্যের প্রধান চালিকাশক্তি।
আগামী দিনের লক্ষ্য: সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং
তবে, মাধ্যমিকের এই চোখধাঁধানো ফলেই থেমে থাকতে রাজি নয় রাজ্যের ফার্স্ট বয়। ভবিষ্যতে আইআইটি (IIT) থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার স্বপ্ন দেখে অভিরূপ। সে একজন সফল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ফলস্বরূপ, উচ্চ মাধ্যমিকের পড়াশোনার পাশাপাশি এখন থেকেই জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার (JEE) জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। উল্লেখ্য যে, এই অবিস্মরণীয় প্রস্তুতির পিছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টার পাশাপাশি তার ৯ জন গৃহশিক্ষকেরও বড় অবদান রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনায় আরও বেশি মনোনিবেশ করতে বদ্ধপরিকর এই কৃতী ছাত্র।
মাধ্যমিক ২০২৬: একনজরে পরিসংখ্যান
পর্ষদ সূত্রে খবর, এবারের মাধ্যমিকে রাজ্যে মোট পাসের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ। মেধার কড়া টক্করে প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে রাজ্যের ১৩১ জন মেধাবী পড়ুয়া। তবে সবাইকে ছাপিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে অভিরূপ প্রমাণ করে দিল, লক্ষ্য স্থির থাকলে এবং একাগ্রতা বজায় রাখলে জীবনের যেকোনো কঠিন লড়াইয়েই জয়ী হওয়া সম্ভব।