পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার গঠন করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন Suvendu Adhikari। আর সেই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই উঠে এল চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন বহু SLST চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের একটাই আবেদন— এবার যেন ওয়েটিং লিস্টের প্রার্থীদেরও নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
Suvendu Adhikari-র কাছে কী দাবি চাকরিপ্রার্থীদের?
বছরের পর বছর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছেন বহু যুবক-যুবতী। শনিবার সেই ক্ষোভ ও আশার মিশ্র ছবি দেখা গেল ব্রিগেডে।
এক চাকরিপ্রার্থী বলেন,
“আমরা চাই নতুন সরকারের কাছে সমস্ত ওয়েটিং ক্যান্ডিডেটদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হোক। তাহলে বহু পরিবার স্বস্তি পাবে।”
আরেকজনের বক্তব্য,
“১০ বছর পর SSC হয়েছে। এখন আপ-টু-ডেট ভ্যাকান্সি বাড়িয়ে সবার চাকরি নিশ্চিত করার আবেদন জানাচ্ছি।”
ব্রিগেডে আবেগ, ক্ষোভ আর প্রত্যাশার মিশ্র ছবি
শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, শনিবারের অনুষ্ঠান যেন বহু চাকরিপ্রার্থীর কাছে ছিল শেষ আশার মঞ্চ।
অনেকেই জানিয়েছেন—
- দুর্নীতির জেরে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন
- বছরের পর বছর অনিশ্চয়তায় কাটছে জীবন
- পরিবারগুলিও চরম আর্থিক চাপে রয়েছে
ফলে নতুন সরকারের কাছে এখন তাঁদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
বড় আপডেট: ওয়েটিং প্রার্থীদের নিয়োগ নিয়ে কি সিদ্ধান্ত নেবে সরকার?
বর্তমানে ২০২৫ সালের SLST পরীক্ষার বহু প্রার্থী ওয়েটিং লিস্টে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, শূন্যপদের সংখ্যা আপডেট করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হোক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সরকারের সামনে এটি অন্যতম বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিজেপির প্রথম সরকার, ইতিহাসের সাক্ষী ব্রিগেড
৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল নজিরবিহীন আয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও যোগ দেন।
নতুন মন্ত্রিসভায়—
- মহিলা প্রতিনিধি
- তফসিলি সম্প্রদায়
- ওবিসি
- আদিবাসী প্রতিনিধি
সব শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।
কী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা?
রাজনৈতিক মহলের মতে, মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেকটাই নতুন সরকারের উপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে চাকরি, নিয়োগ এবং স্বচ্ছ প্রশাসন— এই তিন বিষয়েই দ্রুত পদক্ষেপ দেখতে চাইছে সাধারণ মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যা সমাধান করতে পারলে সরকারের উপর আস্থা আরও বাড়তে পারে।
চাকরিপ্রার্থীদের প্রধান দাবি কী?
মূল দাবিগুলি:
- সমস্ত ওয়েটিং প্রার্থীদের নিয়োগ
- আপডেটেড ভ্যাকান্সি প্রকাশ
- স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া
- দ্রুত কাউন্সেলিং ও নিয়োগপত্র প্রদান
Suvendu Adhikari-র শপথ অনুষ্ঠানে শুধু রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস ছিল না, ছিল হাজারো চাকরিপ্রার্থীর স্বপ্নও। নতুন সরকারের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— এই প্রত্যাশার কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব? আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের বহু যুবক-যুবতী।
1 thought on “Suvendu Adhikari: ‘১০ বছর পর SSC হয়েছে’, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী দাবি চাকরিপ্রার্থীদের?”
Comments are closed.